Eng
ক্যাম্পাস, জাতীয়, ঢাকা, শিক্ষা, সারা দেশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শাটডাউন ঘোষণা

প্রকাশিত: , ১৫ ২০২৫ | ০:০২ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন ডেস্ক।

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন। কাকরাইলে অবস্থানরত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি এই ঘোষণা দেন।

 

অধ্যাপক রইস উদ্দিন বলেন, “আমরা এখানে এসেছি আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য। আমাদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, আমরা ষড়যন্ত্র করতে আসিনি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষা ও পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আমরা ঘরে ফিরব না যতক্ষণ না পর্যন্ত দাবি মেনে নেওয়া হয়।”

 

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকট, বাজেট সংকোচন ও অবকাঠামোগত সমস্যার বিরুদ্ধে আমরা আওয়াজ তুলেছি। কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। এমনকি গত ১৪ মে আমাদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলা হয়েছে, যা অমানবিক ও অন্যায়।

 

এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে থাকেন— “আবাসন চাই, বঞ্চনা নয়”, “বাজেট কাটছাঁট চলবে না”, এবং “হামলার বিচার চাই”। আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে তারা কাকরাইলে অবস্থান করছেন। অনেক শিক্ষার্থী রাস্তায় রাত কাটিয়েছেন, কেউ কেউ ক্লান্ত হলেও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি।

 

শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:

 

1. ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি চালু।

 

2. প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে দ্রুত অনুমোদন।

 

3. দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের প্রকল্প একনেক সভায় পাশ ও দ্রুত বাস্তবায়ন।

 

4. ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত।

 

 

গতকাল সকাল ১১টায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেন। গুলিস্তান ও মৎস্য ভবন অতিক্রম করে কাকরাইল এলাকায় পৌঁছালে, দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় গরম পানি ও লাঠিচার্জের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের সরানোর চেষ্টা চালানো হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

 

বিকেলে উপদেষ্টা মাহফুজ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গেলে শিক্ষার্থীরা “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান দিতে থাকেন এবং তার দিকেই বোতল ছোড়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বক্তব্য বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

 

বর্তমানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কাকরাইল এলাকায় অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এক কণ্ঠে রাস্তায় নেমে এসেছে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটময় বাস্তবতার একটি জোরালো বার্তা বহন করছে।