সোহেল রানা মাসুদ। ক্রাইম এডিশন। অনলাইন ডেস্ক।
লালমনিরহাট জেলা পুলিশ এক সফল বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৭ বোতল ফেন্সিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। মাদকবিরোধী অভিযানে জেলা পুলিশ তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতা স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থা সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয় ০৬ জুলাই ২০২৫ তারিখে, জেলার কালীগঞ্জ থানার অন্তর্গত গোড়ল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাড়ি এলাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ একটি বাড়ির শয়ন কক্ষে লুকানো অবস্থায় ১৭ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে। অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করেন।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মোঃ মিনহাজুল ইসলাম ওরফে মিনহাস (৩৫), পেশায় একজন স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। তার নিজ বসতবাড়ির পূর্ব পাশে অবস্থিত পশ্চিমমুখী শয়ন ঘরে একটি সাদা রঙের শপিং ব্যাগে ফেন্সিডিলের বোতলগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে সেগুলো জব্দ করে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরেই এই ব্যক্তি এলাকায় মাদক কারবারে জড়িত ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন কালীগঞ্জ থানার কর্মকর্তারা, যাদের কার্যকর তৎপরতায় এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য জব্দ এবং একজন অপরাধীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। অভিযানের সময় আরও একটি বিষয় উঠে আসে—গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সঙ্গে আরও একজন পলাতক আসামির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাকে ধরার লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিভিন্ন গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আটককৃত ও পলাতক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। প্রতিটি থানাকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আরও সক্রিয় করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লালমনিরহাটের সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ তরিকুল ইসলাম এর দিক নির্দেশনায় পুরো জেলাজুড়ে মাদক নির্মূল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জনসাধারণের সহযোগিতা থাকলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব।”
পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। তারা এলাকাবাসীকে অনুরোধ করেছে—যদি কোনো মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সন্ধান পান, তাহলে নিকটস্থ থানায় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পারিবারিক পর্যায়ে সতর্কতা গড়ে তোলার মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব।
মাদক সমাজ ও যুব সমাজের জন্য এক মারাত্মক হুমকি। তাই মাদককে না বলুন, পরিবার ও সমাজকে রক্ষা করুন। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা সময়ের দাবি ও নৈতিক দায়িত্ব।