ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিজয় প্রমাণ করেছে যে জনগণের আস্থা ইসলামী আন্দোলনের প্রতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিজয়ের ইতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং শনিবার রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “যারা আমাদের ভালোবাসেন, এবং যাদের আমরা ভালোবাসি, তাদের নিয়েই আগামী নির্বাচনে আমরা অংশ নেব। ইনশাআল্লাহ, তিন শত আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আশা করছি। সেই নির্বাচনে বিজয় অর্জনের জন্য আর্থিক কুরবানি ও নানাভাবে সহযোগিতার জন্য আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।”
আন্দোলন ও ত্যাগের ফসল নতুন বাংলাদেশ
আমীরে জামায়াত আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ ও কুরবানির মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে অনেকে জীবন দিয়েছেন, কেউ কেউ হাত-পা ও চক্ষু হারিয়েছেন। তাদের সেই আত্মত্যাগের বিনিময়ে আল্লাহর অনুগ্রহে একটি বিজয় এসেছে। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ মানুষকে নানা ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন করেন। যারা ধৈর্যের সাথে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তারা আল্লাহর পুরস্কার পান। তিনি হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর কুরবানির পরীক্ষার উদাহরণ টেনে বলেন, “আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা নেন, আর উত্তীর্ণ হলে তাদের সম্মানিত করেন।”
শাসনামলের জুলুম-নির্যাতনের স্মৃতি
বিগত দেড় যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় অনেক নেতা-কর্মী জেল-জুলুম, নির্যাতন ও শহীদের সম্মুখীন হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন আমীরে জামায়াত। তিনি বলেন, “অনেকেই জীবন দিয়েছেন, অনেকে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। সেই ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা মুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারছি।”
তিনি আরও বলেন, আমাদের দায়িত্ব হলো আমানতদারিত্বের সাথে কাজ করা। ফলাফল প্রদানের মালিক কেবল আল্লাহ। এজন্য অহংকার বা আত্মতুষ্টি না করে বিনয়ী থেকে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।
মহিলা মজলিসে আলোচনা ও কর্মসূচি
অধিবেশনটি সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি মুহতারামা নূরুন্নিসা সিদ্দীকা। দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
অনুষ্ঠানে দারসুল কুরআন পেশ করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগীয় কর্মপরিষদের নেতৃবৃন্দ।
অধিবেশনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ষান্মাসিক রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সারাদেশ থেকে নির্বাচিত মহিলা শূরা সদস্যরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
অসুস্থতার পর প্রথম জনসম্মুখে বক্তব্য
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর জনসম্মুখে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “অসুস্থতা ও সুস্থতা দু’টিই আল্লাহর নিয়ামত। নিয়ামতের জন্য আমাদের সবসময় কৃতজ্ঞ থাকতে হবে।”
তিনি উপস্থিতদের ধৈর্যশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের নেতারা নানা নির্যাতন সয়ে আজও টিকে আছেন। তাদের সেই ত্যাগ ও কুরবানির মূল্য দিতে হবে জনগণের সেবা দিয়ে।”
সার্বিক বার্তা
অধিবেশনে মূল বার্তা ছিল—নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, জনগণের সাথে নিবিড় যোগাযোগ এবং ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো। আমীরে জামায়াতের বক্তব্যে আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা, আত্মত্যাগ ও বিনয়ী নেতৃত্বের আহ্বান বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।