
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ময়মনসিংহ শহরের টাউন হল এলাকায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলে। সেদিন প্রবল বৃষ্টির রাতে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি মা খোলা আকাশের নিচে শুয়ে ছিলেন। ঘটনাটি চোখে পড়ে এলাকার মানুষের পাশাপাশি ময়মনসিংহের বাইরের অনেকের। মুহূর্তেই বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায় ফেসবুকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসহায় ওই নারীর বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার চেচুয়া গ্রামে। তার স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন। আগে তিনি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বর্তমানে মানসিক অসুস্থতার কারণে তিনি আর কাজ করতে পারেন না। ফলে তিন সন্তানের (দুই ছেলে ও এক মেয়ে) দায়িত্ব পুরোপুরি ওই নারীর কাঁধে এসে পড়ে। দারিদ্র্যের কারণে অনেক দিন ধরেই মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি এক প্রবাসী নারীর নজরে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই ‘আপু’ দেশের বাইরে থেকেও মানবিক দায়িত্ববোধে সাড়া দেন। তিনি ময়মনসিংহের একজনের মাধ্যমে অসহায় ওই পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং সরাসরি মায়ের সাথে কথাও বলেন। কথোপকথনে তিনি জানতে পারেন, যদি কোনো ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে মা তা করতে রাজি আছেন।
এরপর দ্রুত উদ্যোগ নেন সেই প্রবাসী নারী। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫) তার সহায়তায় অসহায় ওই মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি চায়ের ফ্যাক্স, ওজন মাপার মেশিন, চা পাতা, চিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা ও কালোজিরা। পাশাপাশি তার জন্য নতুন জামাকাপড় এবং সন্তানদের জন্য পোশাকও কিনে দেওয়া হয়। জানা গেছে, আগামীকাল আবারও কিছু প্রয়োজনীয় বাজার করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মানবতার এমন উদ্যোগে স্থানীয়রা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। অনেকেই বলছেন, সমাজে প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কেউ না কেউ এগিয়ে এলে অনেক অসহায় পরিবারই নতুনভাবে বাঁচার সুযোগ পায়।
প্রবাসী ওই নারী জানান, ছবিটি প্রথম দেখেই তার হৃদয়ে নাড়া দেয়। বিশেষ করে ছোট ছোট বাচ্চাদের কষ্ট তাকে ভীষণভাবে ব্যথিত করে। তাই তিনি আর সময় নষ্ট না করে দ্রুত উদ্যোগ নেন। তার মতে, “যদি আমরা প্রত্যেকে সামান্য করে হলেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই, তবে পৃথিবীটা সবার জন্য আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।”
অসহায় মায়ের চোখে মুখেও এখন নতুন আশার আলো। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মানবিক এ সহায়তার জন্য। তার ভাষায়, “আমার সন্তানদের মুখে হাসি ফুটেছে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
ময়মনসিংহের অনেক সচেতন মানুষও বলছেন, এটি মানবিক উদ্যোগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সমাজে এমন আরো সহানুভূতিশীল মানুষ প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রবাসে থাকা অনেকেই চাইলে এভাবে দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।
এমন ঘটনা প্রমাণ করে, মানবিকতার কোনো সীমানা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং মানুষের কষ্ট ভাগাভাগি করারও একটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। একটি ছবি হাজারো হৃদয়ে নাড়া দিতে পারে, আর সেই নাড়া থেকেই জন্ম নেয় মানবতার জয়গান।
জয় হোক মানবতার। ❤️