ক্রাইম এডিশন, অনলাইন ডেস্ক:
গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলায় সরকারি বনভূমির গজারি গাছ কাটার চিত্র ধারণ করতে গিয়ে স্থানীয় একদল দুষ্কৃতকারীর হামলায় তিন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের ভুলেশ্বর গ্রামের পারীরটেক এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিকদের পরিচয় জানা গেছে— নয়া দিগন্তের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের গাজীপুর প্রতিনিধি মো. মোজাহিদ, দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি এস এম জহিরুল ইসলাম এবং আলোকিত সকাল পত্রিকার সাংবাদিক হুমায়ুন কবির। বর্তমানে তারা কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, রায়েদ ইউনিয়নের পারীরটেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের সংরক্ষিত জমির শতাধিক গজারি গাছ কেটে বিক্রি করে আসছে একটি চক্র। এলাকায় ‘গজারী কাশেম’ নামে পরিচিত আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তি এই অবৈধ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সহযোগী হিসেবে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম।
মঙ্গলবার দুপুরে নতুন করে গাছ কাটা শুরু হলে স্থানীয় সাংবাদিকরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা মোবাইল ফোন ও ক্যামেরায় বনভূমি ধ্বংসের ভিডিও ধারণ শুরু করলে আবুল কাশেম ও তার ছেলে আল আমিন, সহযোগী রায়েদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনসহ ১০–১২ জনের একটি দল তাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।
চোখের পলকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আহত সাংবাদিক এস এম জহিরুল ইসলাম দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন সাংবাদিককে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এদিকে, ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানান, বহুদিন ধরেই ওই এলাকায় বনজ সম্পদ লুটপাট চললেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছিল না। সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্য প্রকাশ করতে চাওয়ায় তাদের ওপর হামলার ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে কলঙ্কিত করেছে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব গণমাধ্যমকে জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “মিডিয়ার কর্মীদের নিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা বলেন, সত্য প্রকাশের পথে সাংবাদিকদের ওপর হামলা একটি অশুভ বার্তা বহন করছে, যা মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। দ্রুত বিচার দাবি করে তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে যারা বনজ সম্পদের সুরক্ষার জন্য আওয়াজ তুলেছেন তারা এখন ভীত। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিবেশ ও সাংবাদিকতার নিরাপত্তা দুটোই হুমকির মুখে পড়বে।