গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধি ভঙ্গ, অনুমতি ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ, তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র জানায়, সরকারি কর্মকর্তা হয়েও কিবরিয়া তার সরকারি পরিচয় গোপন রেখে বেসরকারি পাসপোর্ট (নং- অ০১২৬৬৬১২) ব্যবহার করে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একাধিকবার কানাডা সফর করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব সফরের জন্য তিনি কোনো সরকারি অনুমতি বা ছুটি গ্রহণ করেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সিটির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহেদ আলম নামের এক ব্যক্তি গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার সচিব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, গোলাম কিবরিয়া সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৯ জুন কানাডায় যান এবং সঙ্গে নিয়ে যান প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার অর্থ পাচারের একটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নিয়মিত বিদেশ সফরের নামে তিনি কানাডায় অবৈধভাবে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এ কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন এবং যেকোনো সময় বিদেশে পালানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ করা গুরুতর অপরাধ। অভিযোগের সত্যতা মিললে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান জানান, অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হয়েছে। প্রমাণ মিললে বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, কিবরিয়াকে ইতোমধ্যে শোকজ করা হয়েছে এবং তিনি লিখিতভাবে জবাব দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় নাগরিকরা জানান, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে গোলাম কিবরিয়ার এমন আচরণ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এতদিন তিনি কীভাবে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে বিদেশে যেতে পারলেন? সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ করা শুধু নিয়মবিরুদ্ধই নয়, তা রাষ্ট্রীয় নীতিরও স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারি পর্যায়ে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই আরও শক্তিশালী করতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে গোলাম কিবরিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।