ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট
লালমনিরহাট জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে মোঃ জাবেদ আলী (পিতা মৃত সোনা উল্লাহ), সাং-মৌজা শাখাতি, থানাঃ কালীগঞ্জ, জেলাঃ লালমনিরহাট— পূর্ব সিন্দুর্ণা ইউসিবি ব্যাংকের লোন একাউন্ট থেকে নিজের একাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করেন। কিন্তু তার অনুমতি ছাড়াই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পরপর পাঁচটি ট্রান্সজেকশনের মাধ্যমে মোট ১৭ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা তার একাউন্ট থেকে তুলে নেয় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।
ঘটনার পরপরই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হাতীবান্ধা থানায় মামলা নং-১৯, তারিখ ১২/০৯/২০২৫ ইং, ধারা ৪০৬/৪২০ পেনাল কোডে মামলা রুজু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ তারিকুল ইসলাম মহোদয়ের সার্বিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার একটি বিশেষ টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে। পরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার জাঙ্গালপাশা গ্রাম থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন —
১. মোঃ জোনায়েদ (৪১), পিতা হাচেন ফরাজি
২. দুখাই মাতাব্বর (৪৭), পিতা শাহ মাতাব্বর
উভয়ের ঠিকানা জাঙ্গালপাশা গ্রাম, থানাঃ ভাঙ্গা, জেলাঃ ফরিদপুর।
পুলিশ জানায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়ে আসছে। তারা স্বীকার করেছে, লালমনিরহাটের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সরাসরি তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ বলেন, এই চক্রটি উন্নত প্রযুক্তি ও ডিভাইস ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলায় একই ধরনের প্রতারণা চালিয়ে আসছে। তারা লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে ব্যাংক লোন অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে অননুমোদিতভাবে টাকা হস্তান্তর করছে।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক তদন্তে প্রতারক চক্রের নেটওয়ার্ক বেশ বিস্তৃত। একাধিক জেলায় তাদের সহযোগীরা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এ ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত আছে, তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ব্যাংক গ্রাহকদের সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের সময় কাউকে পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া ঠিক নয়। এছাড়া, অস্বাভাবিক লেনদেন ঘটলে তা অবিলম্বে ব্যাংক ও পুলিশকে অবহিত করা উচিত।
লালমনিরহাট জেলা পুলিশ বলে জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রতারণা রোধে তারা অব্যাহত অভিযান চালিয়ে যাবে এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।