ক্রাইম এডিশন, অনলাইন ডেস্ক:
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতি করে না এবং ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা তুলে নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের রাজনীতি গড়াই বিএনপির লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
ফখরুল বলেন, “আমরা প্রতিশোধ নিতে চাই না। আওয়ামী লীগ আমাদের ওপর যত মামলা দিয়েছে, আমরা সেভাবে মামলা করবো না। বরং আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—যদি কোনও মামলা থেকেও থাকে, আমরা তা প্রত্যাহার করবো। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে, সব তুলে নেওয়া হবে।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত বছরের ৫ আগস্ট এক বিবৃতিতে বলেছিলেন—“আমরা প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না, প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসা ও মানবতার রাজনীতিই আমাদের পথ।” মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা সেই আদর্শেই রাজনীতি করতে চাই। প্রতিহিংসার পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।”
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি হেসে বলেন, “ঠিক আছে?” তখন পাশের একজন নেতা জবাব দেন, “ঠিক আছে, তুলে নেওয়া হয়েছে।” এ কথায় উপস্থিত জনতা হাসিতে ফেটে পড়েন।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ ভয় দেখিয়ে ১৫ বছর শাসন করেছে। এখন আবার নতুন করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ভয় দেখিয়ে আর টিকে থাকা যাবে না। শেখ হাসিনাকে বলতে চাই—অত্যাচার, নির্যাতন, গুম-খুন করে আর ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। বরং জনগণের সামনে হাত তুলে স্বীকার করুন, ভুল করেছেন, মানুষকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দিয়েছেন—তাহলে হয়তো জনগণ মাফ করবে।”
আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউন কর্মসূচি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “দিল্লিতে গিয়েও শেখ হাসিনা শান্তিতে নেই। কীভাবে বাংলাদেশের জনগণের ওপর আরও দমন-নিপীড়ন চালানো যায়, তার পরিকল্পনা করছে। এখন আবার ১৩ তারিখে লকডাউনের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। কিন্তু জনগণ আর ভয় পায় না, তারা জেগে উঠেছে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চায় না দেশে সংঘাতময় রাজনীতি চলুক। “আমরা চাই একটা ভালোবাসার সমাজ, যেখানে ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করা হবে, নাগরিক স্বাধীনতা থাকবে এবং মানুষ নিরাপদে বাঁচবে। এ দেশটি কোনো দলের একার নয়—এটা সব মানুষের।”
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. আল মামুন আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় নেতারা।
সভা শেষে নেতাকর্মীরা বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।