1. info@crimeedition.com : Crime Edition : Crime Edition
  2. masud399340@gmail.com : ক্রাইম এডিশন : ক্রাইম এডিশন
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সখীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিনের গণসংযোগে জনগণের উৎসবমুখর সমর্থন জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত জানাজায় জামায়াত শিবির নেতাদের না রাখার আহ্বান ছাত্রদল নেতার জামায়াতকে ভোট দিলে মৃতদেহের হুঁশিয়ারি দিলেন বিএনপি প্রার্থী ফজলুর রহমান জামায়াতের নতুন আমির হিসেবে আজ শপথ নেবেন ডা শফিকুর বাংলাদেশে আওয়ামী স্টাইলে নির্বাচন ঠেকাতে জনগণের অঙ্গীকারের ঘোষণা হাজীগঞ্জে পচা খাবার সংরক্ষণ, চার প্রতিষ্ঠানে জরিমানা অভিযান লালমনিরহাটে মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন নাজমুল মন্ডল ভোলাহাট সীমান্তে বিপুল পরিমাণ নেশা জাতীয় ট্যাবলেট জব্দ করল মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)।

শরীরের রঙের বিভ্রান্তিতে ভেঙে গেল সংসার, কাঁদছে মা ও শিশু

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১০৬ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট:

 

যশোর সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামের এক নারীর জীবনে নেমে এসেছে নির্মম এক বাস্তবতা। স্বামী, যিনি একসময় ভালোবাসার মানুষ ছিলেন, তিনিই আজ হয়ে উঠেছেন নিষ্ঠুরতার প্রতীক।

 

সন্তান জন্ম নিলো—একটি নিখুঁত, ধবধবে সাদা, ফেরেশতার মতো শিশু। পৃথিবীতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সে যেন হাসি এনে দিলো মায়ের মুখে। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টিকলো না। কারণ, শিশুটির গায়ের রঙই হয়ে দাঁড়ালো মায়ের “অপরাধ”!

 

লোকটি সন্তানের মুখের দিকে একবার তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলে বসল—“এই বাচ্চা আমার না! তুই নিশ্চয়ই কারও সঙ্গে পরকীয়া করেছিস!”

এক মুহূর্তও দেরি না করে সে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বের করে দিলো ঘর থেকে। সেই নারীকে, যিনি দশ মাস গর্ভে সন্তান ধারণ করেছেন, রাতের পর রাত কষ্ট সহ্য করে জীবনযুদ্ধ চালিয়েছেন—তাকে রাস্তার ধুলোয় ফেলে দিলো এক কথায়।

 

এরপর শুরু হয় অন্য এক লড়াই। গ্রামের সালিশে সবাই জানলো বিষয়টি, কিন্তু কেউই মুখ খোলার সাহস দেখালো না। সমাজের চোখে এক নারীর কান্না তুচ্ছ, এক মায়ের আর্তনাদ নীরব থেকে গেলো।

 

সন্তানকে কোলে নিয়ে যখন সে নিজের বাবার বাড়িতে ফিরে গেলো, তখনও সান্ত্বনা পেলো না। সৎ মা মুখ ফিরিয়ে নিলেন, কেউ আশ্রয় দিতে রাজি হল না। একমাত্র অবলম্বন ছিল তার সন্তানটিই।

 

আজ সেই নারী অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দিনের শেষে নিজের পেট খালি রেখে শিশুটির মুখে ভাত তুলে দেন। একদিন দেখা গেল—তিনি পাঁচ টাকার চিনি কিনে ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে শিশুটিকে খাওয়াচ্ছেন। যেন একটু মিষ্টি স্বাদে শিশুর মুখে হাসি ফুটে ওঠে। দৃশ্যটি দেখে উপস্থিত সবাই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।

 

প্রশ্ন জাগে—এটাই কি মানবতা? এটাই কি পুরুষত্ব?

একজন নারীকে শুধু সন্দেহের নামে, রঙের কারণে, এমন অপমান করা যায়?

যে মানুষ নিজের সন্তানের দায়িত্ব নিতে পারে না, সে মানুষ নয়—সে এক পাষণ্ড, এক নির্মম দানব!

 

একটি শিশুর কোনো অপরাধ নেই। তার রঙ, তার চেহারা কোনো অপরাধ নয়। রক্তই বলে দেয়, কে কার সন্তান। অথচ সমাজে এখনো রঙ, চেহারা, সন্দেহ—এসব দিয়ে বিচার হয় মায়ের সততা।

 

এমন মানুষ যতদিন সমাজে বেঁচে থাকবে, ততদিন নারীর কান্না থামবে না। সন্তানদের হাসি ফিরবে না।

 

আল্লাহ সেই মায়ের শক্তি দিন—যাতে একদিন সে নিজের সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। প্রমাণ করতে পারে—রঙ নয়, ভালোবাসাই আসল রক্তের প্রমাণ।

 

এই গল্প কোনো কাল্পনিক উপন্যাস নয়; এটি আমাদের চারপাশের সমাজেই ঘটছে—যেখানে এখনো অমানবিকতা ভালোবাসাকে হারিয়ে দিচ্ছে, সন্দেহ সম্পর্ককে হত্যা করছে, আর নিষ্ঠুরতা মায়ের কোল থেকে সন্তানকে ছিনিয়ে নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৫, ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই সাইটের সমস্ত লেখা, ছবি ও কনটেন্ট কপিরাইট আইনের আওতায়। অনুমতি ছাড়া কপি, ব্যবহার বা পুনঃপ্রকাশ নিষিদ্ধ। স্বত্বাধিকার দাবি থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণ করা হবে।

Theme Customized BY LatestNews