ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার এক স্কুলশিক্ষিকা শাহিনুর আক্তার শ্যামলী। সম্প্রতি শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, “শিক্ষকরা দেশি মুরগি কিনে খেতে পারেন না।”
এই মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে তাকে আলোচনার শীর্ষে নিয়ে আসে। তবে পরবর্তীতে তার পারিবারিক ও আর্থিক অবস্থা নিয়ে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহিনুর আক্তার শ্যামলীর নামে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে। ডিগ্রি কলেজ রোডে ‘আরাম কটেজ’-এর পাশেই অবস্থিত ওই ভবনটি তিনি ও তার ছোট বোন যৌথভাবে নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও নিজ এলাকায় একটি একতলা পাকা বাড়ি রয়েছে তার। অন্যদিকে, তার স্বামীর নামে কুমিল্লার বড়ুয়া এলাকায় একটি দোতলা বাড়ি রয়েছে বলেও জানা গেছে।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একটি বিউটি পার্লারও পরিচালনা করেন। হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় ‘শ্যামলী বিউটি কর্নার’ নামে তার ওই পার্লারটি পরিচিত একটি সৌন্দর্যচর্চা কেন্দ্র। স্থানীয়রা জানান, শাহিনুর আক্তার ও তার পরিবার সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার বড় ভাই সালাউদ্দিন মোল্লা ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন এবং ছোট বোন সোহেলি চট্টগ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। পরিবারটি শিক্ষা পেশার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত।
শাহিনুর আক্তার বর্তমানে হাজীগঞ্জ গার্লস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি তিনি উপজেলা শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্বামী কচুয়া উপজেলার রহিমানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
ভাইরাল হওয়া বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে শাহিনুর আক্তার পরে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন,
“আমি যা বলেছি, তা রূপক অর্থে বলেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে নয়, বরং শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলেছি। আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও সংগ্রামের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষক সমাজের দুরবস্থা বোঝাতেই আমি এমন কথা বলেছি। আমার নিজের আর্থিক অবস্থা নয়, শিক্ষকদের সাধারণ জীবনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।”
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষক শাহিনুর আক্তার ও তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল। তারা সামাজিকভাবেও পরিচিত ও সম্মানিত পরিবার হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
শ্যামলীর গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাসারা গ্রামের মোল্লা বাড়িতে। তার এক মেয়ে বর্তমানে ঢাকায় কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করছে এবং ছোট ছেলে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
রাজধানীতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। কেউ কেউ তার মন্তব্যকে শিক্ষকদের বাস্তব সমস্যা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন, এটি অতি আবেগপ্রবণ বক্তব্য ছিল।
তবে সমালোচনার মাঝেও শাহিনুর আক্তার শ্যামলী বলেন, “আমি শিক্ষক সমাজের পক্ষে কথা বলেছি, নিজের প্রচারের জন্য নয়।”