
আব্দুস সোবহান মোল্লা, গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের বাঘেরবাজার এলাকায় একটি কয়েল উৎপাদন কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকায় অবস্থিত স্ট্যান্ডার্ড ফিনিক্স কয়েল কারখানায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন কারখানার বিভিন্ন অংশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে কারখানার নিরাপত্তাকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা বাড়তে থাকায় তারা ব্যর্থ হন। পরে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার সময় কারখানার ভেতর ধোঁয়ায় এলাকা অন্ধকার হয়ে যায় এবং তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। এ সময় কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে থাকলেও আগুনের প্রচণ্ডতায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। জানা যায়, আগুন লাগা ভবনের আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম অফিসার লিমা খানম নিশ্চিত করেন যে, আগুন নিয়ন্ত্রণে সাতটি ইউনিট কাজ করছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের পথে রয়েছে। তিনি জানান, প্রথমে ফিনিক্স কেমিক্যাল গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাতের খবর পাওয়া যায়। তবে আগুন কীভাবে লেগেছে, সে বিষয়ে এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে আগুনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করছে। এলাকাবাসীর অনেকেই জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার কারণে কারখানার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, যা স্বস্তির খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিল্প কারখানায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কর্মীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা প্রশংসিত হয়েছে।