ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আকস্মিক এই ভূমিকম্পে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভবন কেঁপে উঠলে আতঙ্কে মানুষ ছুটে বেরিয়ে আসে ঘর, দোকান ও অফিস থেকে। রাজধানীর ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, বনানী, বাড্ডা, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ দ্রুত খোলা স্থানে অবস্থান নেন।
ভূমিকম্পের সময় অনেকেই ভবনের সিঁড়ি ব্যবহার করে নিচে নেমে আসেন। কেউ কেউ নিরাপদ স্থানে গিয়ে ফোনে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। আতঙ্কের মুহূর্তে শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন আশপাশের মানুষ।
এদিকে গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকার হাজিপুকুর ছয়দানায়ও ভূমিকম্পের কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালবেলায় অনেকেই ঘর, দোকান কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে ফ্যান, লাইট, আলমারি দুলতে শুরু করলে তারা বুঝতে পারেন ভূমিকম্প হয়েছে। মুহূর্তেই মানুষ বাইরে বেরিয়ে এসে হাজিপুকুর ছয়দানার খোলা রাস্তায় ও মোড়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে থাকেন। ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন বলেন, “দোকানে বসে ছিলাম। প্রথমে টেবিল কাঁপতে দেখে ভাবলাম কেউ ধাক্কা দিয়েছে। পরে দেখি চারপাশ দুলছে, তখনই বাইরে বের হয়ে যাই।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সেই মুহূর্তের ভিডিও ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। কেউ লিখেছেন, “ভবন কাঁপলেও মনটা কেঁপেছে আরও বেশি।” আবার কেউ লিখছেন, “এমন মুহূর্তে বুঝি মানুষের অসহায়ত্ব কত গভীর।”
বরিশাল, ফেনী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের কিছু স্থান থেকেও ভূমিকম্প অনুভবের খবর পাওয়া গেছে। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS এখনো পর্যন্ত ভূমিকম্পের মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
ভূমিকম্প নিয়ে ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের সচেতন থাকা জরুরি। দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের দুর্যোগে আতঙ্কের বদলে সচেতনতা, প্রস্তুতি ও দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া সবচেয়ে কার্যকর উপায়।