ক্রাইম এডিশন, অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, বর্তমানের মতো একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন আর মেনে নেওয়া হবে না। দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ, তাই তারাই সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে এবং কার হাতে যাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব। আর সেই সিদ্ধান্ত হবে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় মাঝিড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের তিনটি বড় দল ক্ষমতায় এসেছে—কেউ দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, কেউ দীর্ঘ সময় ভোট ছাড়া ক্ষমতা ধরে রেখেছে, আর কেউ আবার বহুবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশে দলীয় সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং দুঃশাসন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক দলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষেই দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। যে দলে নিজস্ব কর্মীদের জীবন সুরক্ষিত নয়, তাদের কাছে দেশ নিরাপদ হতে পারে না। তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে জনগণের আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, এতে দুই হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছে।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত দেশ গড়া হবে। নারীরা সুশৃঙ্খল পরিবেশে যেকোনো স্থানে সম্মানজনকভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে।” পাশাপাশি দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করতে ঘরে ঘরে সমর্থন আদায়ের আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য ন্যায়ের পথ অনুসরণ, তরুণদের কর্মসংস্থান, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বগুড়া–৭ আসনের এমপি প্রার্থী গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি বেকার যুবক ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করবেন এবং চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা গড়ে তুলবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বগুড়া অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হাকিম সরকারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
কর্মী সম্মেলনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। তারা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু নির্বাচন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।