ক্রাইম এডিশন, অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন শাখার সদস্য সচিব আবিদুর রহমান মিশু মৃত্যুর পর নিজের জানাজা নিয়ে বিশেষ একটি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার জানাজার নামাজে যেন কোনো জামায়াত–শিবির নেতাকে উপস্থিত থাকতে না দেওয়া হয়। তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) নিজ ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, মৃত্যুর আগে ছাত্রদল তাকে কী দিয়েছে কিংবা দেয়নি, তা পরে ভাববেন। তবে মৃত্যুর পর তার দল ছাত্রদলের কাছে একটি অনুরোধ থাকবে—জানাজায় যেন জামায়াত-শিবিরের কোনো নেতা উপস্থিত না থাকে। তিনি আরও বলেন, তার দাফন বা লাশকে কেন্দ্র করে যেন কেউ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা না করে।
তার এই পোস্টে দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফেরদৌস সায়মন মন্তব্য করেন, “তোর আগে যদি আমার মৃত্যু না হয়, তাহলে তোর এই ইচ্ছা পূরণ করবো।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “দেশবিরোধী মানসিকতার বিরুদ্ধে এ যেন এক তীব্র প্রতিবাদ।”
মিশুর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াত–শিবিরপন্থীরা নানাভাবে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা ব্যক্তিগত চরিত্র হনন, রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। এমনকি দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়েও নোংরা প্রচারণায় লিপ্ত হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছেন। সেই ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানান।
তার এই পোস্টকে কেউ ব্যক্তিগত অবস্থান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি রাজনৈতিক দ্বিধা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কেউ কেউ তার বক্তব্যকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে গণ্য করেছেন। আবার অনেকে এটিকে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী মন্তব্য বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্রদলের অভ্যন্তরেও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনের অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত হলেও এটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। তবে অনেকে বলেছেন, এটি তার ব্যক্তিগত অধিকার এবং ধর্মীয় ইচ্ছা—যা সম্মান করার প্রয়োজন রয়েছে।
তবে এই আলোচনার মধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনো কখনো জনসমক্ষে প্রকাশ পেলে বিষয়টি সমাজের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে আলোচনার জন্ম দেয়।