ক্রাইম এডিশন, অনলাইন ডেস্ক:
রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে হাজারীবাগ থানাধীন জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার সড়কের একটি আবাসিক হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে জান্নাতারা রুমী (৩০) নামে ওই নেত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হোস্টেলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে তার কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান। একপর্যায়ে সন্দেহ হলে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং একটি কক্ষে জান্নাতারা রুমীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহত জান্নাতারা রুমী নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার নাজিরপুর থানার বাসিন্দা মো. জাকির হোসেনের মেয়ে। তার মায়ের নাম নুরজাহান বেগম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন এবং ওই ছাত্রী হোস্টেলেই বসবাস করতেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানা যায়, জান্নাতারা রুমী জাতীয় নাগরিক পার্টির ধানমন্ডি থানা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চলতি বছরের ৬ নভেম্বর এই থানা কমিটি ঘোষণা করা হয়। তরুণ বয়সেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে তিনি দলীয় পর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার পরপরই হাজারীবাগ থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
হাজারীবাগ থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।” তিনি আরও জানান, নিহতের মোবাইল ফোন, ব্যক্তিগত ডায়েরি এবং কক্ষের আলামত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জান্নাতারা রুমীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ ও আশপাশের বাসিন্দাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেউ কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা ঘটনার কথা শুনেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।