ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা কয়েকজন সমন্বয়ক, রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ সদস্য প্রার্থীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয়জনকে গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, গণসংযোগ ও নির্বাচনী তৎপরতার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এনে সরকার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
গানম্যান পাওয়ার অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও এই নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় আসছেন।
সূত্রগুলো জানায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চলাফেরা, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ এবং জনসংযোগ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছে। গানম্যানের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের চলাচলের সময় পুলিশের অতিরিক্ত নজরদারিও থাকবে। তবে এটি কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়; নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে খুলনায় এক রাজনৈতিক নেতার প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নিরাপত্তা প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষ ও সহিংসতার আশঙ্কাও বাড়ে। সে কারণে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনে সক্রিয় ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদার করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তবে একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সহিংস রাজনীতি বন্ধে রাজনৈতিক সমঝোতাও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের মতে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে রাজনৈতিক নেতারা ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। যদিও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তুলেছেন অনেকেই।