ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের পর দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ঝুঁকিতে থাকা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত ২০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে গানম্যান প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও হুমকির প্রেক্ষাপটে ঝুঁকি বিবেচনা করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০ জনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনায় রাখা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত আলোচিত ব্যক্তি আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
হিরো আলম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই একাধিকবার হুমকির মুখে পড়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে একজন গানম্যান প্রদানের অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে হিরো আলম বলেন, তিনি এর আগেও একাধিকবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং প্রায় প্রতিবারই হামলার শিকার হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বগুড়ায় একবার তিনি প্রায় বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে হামলা ও মারধরের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলে দেওয়া হয়। এসব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি শুধু নিরাপদে চলাফেরা করতে চাই। এজন্য গানম্যান প্রয়োজন।”
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনের আরও বেশ কয়েকজন নেতা ও সংসদ-সদস্য প্রার্থীও গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে এবং তখন প্রার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করা একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
বর্তমানে হিরো আলমের আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি, হুমকির ধরন ও ঝুঁকির মাত্রা যাচাই করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।