
ক্রাইম এডিশন, অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী ৩ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকায় একটি বৃহৎ মহাসমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই দিন দুপুর ১২টায় ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় এই কর্মসূচি শুরু হবে। সমাবেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও বিচারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এই মহাসমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিও কর্মসূচির অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।
এই মহাসমাবেশ সফল করতে রাজধানী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের নেতারা সম্প্রতি একটি সমন্বয় সভা করেন। সভায় কর্মসূচির প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
জামায়াতের নেতারা আশা করছেন, এই সমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেবেন। প্রাথমিক হিসেবে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এক মিলিয়নের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এজন্য জেলা ও থানা পর্যায়ে সমন্বয় কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দলের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে আগে ন্যায়বিচার ও আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি। শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের মতো বিষয়গুলো উপেক্ষিত থাকলে জনগণের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর সেটি তখনই সম্ভব হবে, যখন সহিংসতা, অস্ত্রের দাপট ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করা যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মহাসমাবেশ দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
সব মিলিয়ে, ৩ জানুয়ারির এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলোর বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।