
ক্রাইম এডিশন ডেস্ক:
সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “বাংলা এডিশন”–এর এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) বাতিলের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিভিন্ন মহল।
এই প্রসঙ্গে বিশ্লেষক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্যের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি দীর্ঘ পোস্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি সরকারি সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উত্থাপন করেন। পোস্টটিতে বলা হয়, কোনো গণমাধ্যম বা প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সুস্পষ্ট আইনগত ও নীতিগত কারণ থাকা জরুরি। শুধুমাত্র ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ের কারণে কোনো মাধ্যমের এনওসি বাতিল করা হলে তা ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন উদ্বেগ তৈরি করে।
পোস্টে উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন বড় করপোরেট ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, যদি কোনো প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে একই মানদণ্ডে বহু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্বাচিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কি না—সেই প্রশ্ন সামনে আসছে।
আরও বলা হয়, যেকোনো সরকারি সিদ্ধান্ত টেকসই হতে হলে তার পেছনে শক্ত আইনগত ভিত্তি থাকতে হয়। অন্যথায়, আদালতে সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে তা টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। আলোচ্য পোস্টে দাবি করা হয়, এনওসি বাতিলের ক্ষেত্রে যদি সুস্পষ্ট কারণ দেখানো না যায়, তাহলে এটি ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
পোস্টে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বলা হয়, কোনো কোনো প্রভাবশালী মিডিয়া ও এলিট মহল নির্বাচিত কিছু ইস্যুতে সোচ্চার হলেও, এই ঘটনায় তাদের নীরবতা চোখে পড়ার মতো। এতে করে গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা ও নৈতিক অবস্থান নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া লেখায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনমনে জমে থাকা ক্ষোভের কথাও উঠে আসে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হলে তা সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে—এমন সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়। লেখকের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাপা থাকা অসন্তোষ আবারও বড় কোনো রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার রূপ নিতে পারে, যা কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়।
সব মিলিয়ে, “বাংলা এডিশন”–এর এনওসি বাতিলের সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও যুক্তিসংগত অবস্থান না এলে বিতর্ক আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।