ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ঋণখেলাপি হিসেবেই বহাল রাখা হয়েছে। ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে তিনি হাইকোর্টে গেলেও সেখানে স্বস্তি পাননি।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিষয়টি শুনানি শেষে মাহমুদুর রহমান মান্নার দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে তিনি আইনগতভাবে ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচিত থাকছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ হারাচ্ছেন।
আইন অনুযায়ী, ঋণখেলাপি ব্যক্তি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য নন। সে কারণে হাইকোর্টের রায়ের পর মান্নার নির্বাচনি ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। যদিও তিনি চাইলে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে চেম্বার আদালতে যেতে পারেন, তবে টানা সরকারি ছুটির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে অন্তত ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণখেলাপির তালিকায় তার নাম বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আরেকটি ঘটনা। জোটভিত্তিক নির্বাচনি সমঝোতার অংশ হিসেবে বগুড়া-২ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে আদালতের রায়ের কারণে সেই মনোনয়ন বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়ার একটি শাখা থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বেশি বকেয়া আদায়ের জন্য চলতি মাসের শুরুতে ‘কল ব্যাক নোটিশ’ পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালে ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ সুবিধা পেলেও পরবর্তীতে নিয়মিত কিস্তি ও অন্যান্য দায় পরিশোধে ব্যর্থ হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুদ ও অন্যান্য চার্জ যুক্ত হয়ে বকেয়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ব্যাংকের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও দায় পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সব মিলিয়ে আদালতের সাম্প্রতিক রায় ও ব্যাংক সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মাহমুদুর রহমান মান্নার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বর্তমানে এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে রয়েছে। আপিলের মাধ্যমে তিনি স্বস্তি পান কি না, সেদিকেই এখন দৃষ্টি রাজনৈতিক মহলের।