নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের যোগ্যতার সনদে বয়স সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় তিনি তার ছোট ভাইয়ের মাধ্যমিক (এসএসসি) সনদ ব্যবহার করে প্রায় ২৯ বছর ধরে বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি করে আসছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে ঢাকার উত্তরা এলাকায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের কুসুমদিয়া গ্রামে।
এই অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপি বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন শেখ আহাদুল হাসান নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্স থেকে একজন পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ ও অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত এসআইয়ের প্রকৃত নাম মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা। তিনি ১৯৮৫ সালে কাশিয়ানী উপজেলার গোপীমোহন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ রাইফেলস (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি)-এ সিপাহি পদে যোগদান করেন।
একই বছরে তিনি তার সহপাঠী রওশন আরা বীথিকে বিয়ে করেন। তবে দাম্পত্য কলহের কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তার স্ত্রী বাংলাদেশ রাইফেলসের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তের পর তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
চাকরি হারানোর পর তিনি নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। এর কিছুদিন পর বাংলাদেশ পুলিশে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। পুলিশে যোগদানের আগ্রহ থাকলেও নিজের শিক্ষাগত সনদ অনুযায়ী বয়স নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি হওয়ায় তিনি সমস্যায় পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ অবস্থায় তিনি তার আপন ছোট ভাই আমিনুর রহমান আমানের এসএসসি সনদ ব্যবহার করেন এবং প্রকৃত তথ্য গোপন করে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে নিয়োগ লাভ করেন।
পরবর্তীতে চাকরির ধারাবাহিকতায় তিনি পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ, শিক্ষাগত সনদ যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানা গেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।