
ডেস্ক রিপোর্ট:
ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ঘোষণার অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) সারাদেশে একদিনের সাধারণ ছুটি থাকবে।
এই ঘোষণা মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানান। তিনি দেশবাসীর কাছে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং মরহুমার রুহের শান্তি কামনায় দোয়া করার অনুরোধ করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান অম্লান। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার সাহসী নেতৃত্ব দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং তাঁর নামাজে জানাজার দিনে একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি সকলকে শান্ত ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে শোক পালনের জন্য আহ্বান জানান।
সরকারের এই ঘোষণা অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় শোককালে সরকারি ও অর্ধ-সরকারি সব প্রতিষ্ঠানে পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। এছাড়া দেশের সাধারণ মানুষও এই সময়ে মরহুমার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবে।
বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। চিকিৎসকরা জানান, মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তার শারীরিক অবস্থা অতি কমজোর এবং তিনি পরিবারের সান্নিধ্যে ছিলেন।
দেশের রাজনীতি ও সাধারণ জনগণ এই শোককে গভীরভাবে অনুভব করছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনৈতিক নেতারা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ বিভিন্ন মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারত ও অন্যান্য দেশ থেকে সমবেদনা জানানো হয়েছে।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ে তার অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে। বিশেষ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তার আপসহীন সংগ্রাম দেশ ও জনগণের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে দেশে তিন দিনের শোক পালনের সময়কাল নির্ধারণ করা হলেও, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানও নিজস্ব উদ্যোগে শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন করবে। ৩১ ডিসেম্বর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং তার দাফন সম্পন্ন হবে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে।
এর মাধ্যমে দেশবাসী এক অনন্য নেত্রীকে হারালেও তার রাজনীতির অবদান ও ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব চিরকাল স্মৃতিতে অম্লান থাকবে।