বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন সময় অতিক্রম করছে। দলটির দীর্ঘদিনের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই শূন্যতা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা না রেখেই পূরণ হয়ে গেছে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
দলীয় সূত্র ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিএনপির গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে বলা আছে—চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সেই বিধান অনুযায়ী তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান। যদিও দলীয়ভাবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি এবং দলীয় বিবৃতিতেও ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ পদবিটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
দলীয় নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক পালন করা হয়েছে এবং দলীয়ভাবে চলছে সাত দিনের শোক কর্মসূচি। এমন আবেগঘন পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়াকে দলটি কৌশলগতভাবেই এড়িয়ে চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির আসন্ন বৈঠকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়া বিএনপির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি দলের হাল ধরেন। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ৪১ বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বেই বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন থেকেই তিনি দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা আছে, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি কিংবা পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু বিএনপির নয়, পুরো দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই সময়ে দলের ভেতরে পদ-পদবি নিয়ে আলোচনা মুখ্য বিষয় নয়। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমানই এখন দলের চেয়ারম্যান—এতে কোনো দ্বিমত নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নতুন করে সংগঠিত হওয়ার পথে হাঁটবে। খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করে দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই এখন তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।