ঢাকা-৯ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নেওয়া তাসনিম জারাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের পর তার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে যেমন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তেমনি নির্বাচনী তহবিলে দেওয়া ক্রাউড ফান্ডিংয়ের অর্থ ফেরত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়ে তাসনিম জারা জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় তার অবস্থান শক্ত এবং তিনি আশাবাদী যে বৈধতা ফিরে পাবেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা নির্বাচনী তহবিলে দেওয়া অর্থ ফেরত চাইবেন, তাদের প্রত্যেককেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও এটি চূড়ান্ত নয়। তার আইনজীবীদের মতে, আপিলের ক্ষেত্রে উপস্থাপন করার মতো যুক্তি ও অতীতের নজির রয়েছে। তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।
ক্রাউড ফান্ডিং প্রসঙ্গে তাসনিম জারা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার সময়ই তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেছিলেন। এনসিপি থেকে পদত্যাগের কারণে কেউ যদি অনুদান ফেরত চান, তাহলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন সমর্থক বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ ফেরত চেয়েছেন এবং তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তি অর্থ ফেরত চেয়েছেন এবং প্রত্যেকের আবেদন যাচাই করে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। যারা এখনো ফেরত চাননি, তাদের জন্য একটি অনলাইন ফর্মের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার লিংক ভিডিওর ক্যাপশন ও মন্তব্য অংশে দেওয়া হয়েছে।
তাসনিম জারা জোর দিয়ে বলেন, এই অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই। কেউ টাকা ফেরত চাইলে তাকে অপেক্ষা করানো হবে না। বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তিনি ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৪৭ লাখ টাকার মতো অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। এই অর্থ মূলত নির্বাচনী প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, তাসনিম জারা এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দলটির একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মতানৈক্যের কারণে তিনি পদত্যাগ করেন। এর পরপরই তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
বর্তমানে তার আপিল প্রক্রিয়া এবং ক্রাউড ফান্ডিং ফেরত—এই দুই বিষয়কে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।