
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রমের সময়ের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তাকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই ওবায়দুল কাদের গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত শুক্রবার হঠাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তিনি প্রায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে ভেন্টিলেশনের সহায়তা প্রয়োজন হয়।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসায় তিনি সাড়া দিচ্ছেন ঠিকই, তবে তার শারীরিক অবস্থা এখনও অত্যন্ত সংকটজনক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি টিম সার্বক্ষণিক তার চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা দেশত্যাগ করেন। সেই সময় থেকেই ওবায়দুল কাদের ভারতে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে। পরবর্তীতে তিনি নিজেও এক সাক্ষাৎকারে ভারতের কলকাতায় অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করেন।
এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওবায়দুল কাদের দাবি করেছিলেন, তিনি এখনও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই নিজেকে মনে করেন। একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কয়েক মাস আত্মগোপনে ছিলেন এবং একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করেন। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় অবশেষে ২০২৪ সালের শেষের দিকে তিনি দেশ ছাড়েন বলে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক জীবনে ওবায়দুল কাদের দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নোয়াখালী-৫ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। চিকিৎসকদের পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও স্বাস্থ্যগত অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।