জুলাই গণআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণী তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর টানা ১১ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন তিনি। তবে এই মামলাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন ছাত্রনেতা, সামাজিক আন্দোলনের কর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুরভীকে একটি সাজানো মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। সংগঠনটির নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, একজন সাংবাদিকের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়াই তার বিরুদ্ধে মামলার মূল কারণ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে।
সংগঠনটির এক শীর্ষ নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সক্রিয় ভূমিকা রাখা সুরভীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে সুরভীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয় এবং পরে মামলার পথ বেছে নেওয়া হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, অভিযুক্ত সাংবাদিক নিজেকে ক্ষমতাধর মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় সুরভীকে সামাজিক ও আইনি ভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়। এমনকি তাকে নিয়ে মিডিয়া ট্রায়ালের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, এত বড় অঙ্কের চাঁদাবাজির অভিযোগের পক্ষে কোনো আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ আছে কি না। তিনি বলেন, ব্যাংক ট্রান্সফার, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল ট্রেইল কিংবা প্রত্যক্ষ সাক্ষী—কোনো কিছুই এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে একজন তরুণীকে কারাগারে পাঠানো কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেটিও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
তিনি আরও লেখেন, একদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগ, অন্যদিকে রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্যের প্রসঙ্গ—এই দুই অভিযোগের মধ্যে স্পষ্টতা নেই। এতে মনে হচ্ছে, আসল অভিযোগ আড়াল করতে একাধিক বিষয় জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এটি আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে চরিত্র হননের দিকেই বেশি ইঙ্গিত করে।
আরেক আন্দোলন সংগঠকের পোস্টেও একই ধরনের অভিযোগ উঠে আসে। সেখানে বলা হয়, কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর প্রথমে ভুয়া সংবাদ, পরে মামলার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত সাংবাদিকের পেশাগত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
উল্লেখ্য, সুরভীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় এখনো তদন্তের বিস্তারিত তথ্য বা মামলার চার্জশিট প্রকাশ হয়নি। মানবাধিকারকর্মী ও ছাত্র সংগঠনগুলো দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের কারণে কাউকে হয়রানি করা হলে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।