জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের একতরফা ও পক্ষপাতমূলক ভূমিকার কারণে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। তার মতে, যদি প্রশাসনের আচরণ নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে—এমন আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের অন্তত একশটির বেশি উদাহরণ এনসিপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সিলেট–৩ আসনে একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র কেবল কিছু তথ্য পরবর্তীতে দাখিল করার কথা বলার কারণে বাতিল করা হয়েছে। অথচ একই আসনে অন্য একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর ক্ষেত্রে অনুরূপ পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তাকে অতিরিক্ত সময় দিয়ে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রশাসনের এমন আচরণের ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়েও মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অতীতের মতো এবারও যদি একতরফা সিদ্ধান্ত ও পক্ষপাতমূলক ভূমিকা দেখা যায়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তিনি মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব শুধু নির্বাচন আয়োজন করা নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়ায় সমান আচরণ নিশ্চিত করাও তাদের সাংবিধানিক কর্তব্য।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে—যেসব ঘটনায় বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। বিশেষ করে আপিল শুনানিগুলো যেহেতু নির্বাচন কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে যেন কোনো ধরনের পক্ষপাত বা রাজনৈতিক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “যদি সামনের দিনগুলোতে আপিল বা অন্যান্য সিদ্ধান্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে, তাহলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করার ক্ষেত্রে এই নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে জনগণের মধ্যে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হবে।” তার মতে, নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা রক্ষার জন্য এখনই দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নির্বাচন কমিশন প্রশাসনের ওপর প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। তা না হলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।