কুমিল্লা-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছেন একই আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তিনি এই আবেদন দাখিল করেন।
আবেদনে বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হলেও, সেগুলো এখনো যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, হাসনাত আব্দুল্লাহর জমা দেওয়া হলফনামা ও সম্পদ বিবরণীতে পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। বিশেষ করে স্বর্ণালংকার সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক অংশে ২০ ভরি স্বর্ণের মূল্য শূন্য টাকা দেখানো হলেও অন্য অংশে একই স্বর্ণালংকারের মূল্য প্রায় ২৬ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে, যা স্পষ্ট অসংগতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া আয়কর সংক্রান্ত তথ্যেও ত্রুটির অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনে দাবি করা হয়, প্রার্থীর নিজের আয়কর রিটার্নের তথ্য থাকলেও তার স্ত্রীর আয়কর রিটার্ন দাখিল করা হয়নি। নির্বাচন আইন অনুযায়ী প্রার্থীর স্ত্রী বা স্বামীর আয়কর তথ্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক—এমন যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস হিসেবে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ‘সাধারণ জনগণের অনুদান’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে এই অনুদানের কোনো নির্দিষ্ট উৎস বা যাচাইযোগ্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। নির্বাচন ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে তা মনোনয়নের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে—এমন বক্তব্যও আবেদনে উঠে এসেছে।
তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল অভিযোগ উঠলেই তা চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচিত হয় না। প্রতিটি অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রার্থী পক্ষ থেকেও অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ থাকে।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক। তিনি এর আগে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে হাসনাত আব্দুল্লাহ এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে পরিচিত।
এদিকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নিজের মনোনয়ন নিয়েও অতীতে আইনি আলোচনা হয়েছে। ঋণখেলাপি সংক্রান্ত একটি বিষয়ে উচ্চ আদালতের আদেশ ও তার স্থগিতাদেশ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে, যা এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
সার্বিকভাবে বলা যায়, কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনী মাঠে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান। এসব অভিযোগ কতটা সত্য বা গ্রহণযোগ্য, তা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশনের তদন্ত ও আইনি যাচাই। ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো—সব পক্ষের তথ্য যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।