লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় মধ্যরাতে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার উপস্থিতিকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা ও কৌতূহল। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার নীরবতায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুনা এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন তাজুর নিজ বাসভবনে যান হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। মধ্যরাতে পুলিশের এমন উপস্থিতি দেখে এলাকাবাসীর একাংশের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয় যে সেখানে কোনো গোপন বৈঠক হতে পারে।
এই সন্দেহের ভিত্তিতে অল্প সময়ের মধ্যেই আশপাশের লোকজন ওই বাসার সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাসায় উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যান বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
ঘটনাটি জানাজানি হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার রাজনৈতিক নেতার বাসায় গভীর রাতে উপস্থিতি নিয়ে স্বচ্ছতার বিষয়টি সামনে আসে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ এর কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তার এই নীরবতা ঘটনাটিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
অন্যদিকে, আলোচনায় আসা আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগটি নাকচ করা হয়েছে। আমজাদ হোসেন তাজুর স্ত্রী শাপলা আক্তার বলেন, এটি কোনো বৈঠক ছিল না। বাসায় একটি পারিবারিক দাওয়াতের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই দাওয়াতেই ওসি উপস্থিত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টিকে অযথা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমান সেন জানান, ওই বাসায় দাওয়াতে পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ সেখানে যান। তিনি বলেন, বিষয়টিকে গোপন বৈঠক হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, সময় ও পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনায় প্রশাসনের আরও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়।
ঘটনাটি বর্তমানে পুরো এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের পরও মধ্যরাতের এই উপস্থিতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।