আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি দাবি করেছেন, ভোটের আগেই জনগণের রায় তাঁদের পক্ষে চলে এসেছে এবং নির্ধারিত ভোটের দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামে অনুষ্ঠিত হজরত গেদু শাহ চিশতি (রহ.)–এর ৪৯তম বার্ষিক ওরস মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনের কারণেই তিনি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর ভাষায়, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতার লড়াইয়ের জন্য নয়। তাই মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থাকাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে নুর বলেন, এ দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় ভিন্নমতের মানুষ একত্রে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াই সৌহার্দ্য ও সহনশীলতার পরিচয়। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, গণঅধিকার পরিষদ, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ইসলামি দলের মানুষ একসঙ্গে ধর্মীয় আয়োজনে অংশ নিলে সমাজে সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।
দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলাকে একটি আদর্শ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নুরুল হক নুর বলেন, এখানে রাজনৈতিক বিভাজন নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে চান তিনি। সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার কথাও জানান তিনি।
গণতান্ত্রিক অধিকার প্রসঙ্গে নুর বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কাউকে জোর করে বাধা দেওয়া, ভয় দেখানো বা সহিংসতার রাজনীতিতে তাঁরা বিশ্বাস করেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চাঁদাবাজি ও জনভোগান্তির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে নুরুল হক নুর বলেন, এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষসহ সব ব্যবসায়ী নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে—ব্যবসা করতে কাউকে কোনো ধরনের চাঁদা দিতে হবে না। দলের কোনো নেতা-কর্মী যদি চাঁদাবাজি বা হয়রানির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওরস মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতা-কর্মী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও ভক্তদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পুরো আয়োজনটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।