ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মানহানিকর ও কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। এ ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগটি করা হয়েছে আশুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলমগীর খাঁর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, গত ১১ জানুয়ারি আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর এলাকায় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত একটি মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুবদল নেতা আলমগীর খাঁ তার সম্পর্কে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেন। অভিযোগে বলা হয়, ওই বক্তব্যে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কটূক্তিমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়, যা একজন প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
রুমিন ফারহানার দাবি, ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তার সমর্থক এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগের সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত বক্তব্যের একটি ভিডিও লিংকও সংযুক্ত করেছেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, নির্বাচনের সময় এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘনের শামিল এবং এতে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আলমগীর খাঁ বলেন, তার বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বক্তব্যের একটি অংশ কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, যার ফলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বক্তব্য দেওয়ার সময় কথার মধ্যে অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকতে পারে, তবে কাউকে অপমান করার উদ্দেশ্য তার ছিল না।
অন্যদিকে, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনী মাঠে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় একটি পক্ষ অশালীন ভাষা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটারদের সমর্থন হারানোর হতাশা থেকেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে আসনটি অন্য শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।