
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সরে যাওয়ার কারণ অবশেষে প্রকাশ্যে আনলেন দলটির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার ২০২৫ ইং প্রথমবারের মতো নিজ কণ্ঠে তার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন তিনি।
জানা যায়, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা ছিল তাসনিম জারার। তবে গত ২৭ ডিসেম্বর তিনি দলীয় পরিচয় থেকে সরে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে—কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত?
মঙ্গলবার নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে তাসনিম জারা বলেন, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামো ও ব্যবস্থার ভেতরে মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, পুরোনো ধাঁচের রাজনীতি আর দেশের জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার যে কাঠামো বিদ্যমান, সেখানে জবাবদিহির বিষয়টি অত্যন্ত দুর্বল। প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, যিনি জবাবদিহি করবেন, তিনিই আবার নিয়োগদাতা—যা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী।
এনসিপির সাবেক এই নেত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি উঠে আসছে। কিন্তু এসব সংস্কার কেবল আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। তার মতে, যারা ক্ষমতায় থাকবে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
তাসনিম জারা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তারা আগের মতো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আর মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। জনগণের এই মনোভাবই তাকে নতুন পথে হাঁটতে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনীতিতে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে হলে প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে হবে। স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই তার রাজনৈতিক লক্ষ্য।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে তাসনিম জারা বলেন, রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা থেমে থাকলে চলবে না। গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হলে ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এটাই তার রাজনৈতিক অবস্থানের মূল ভিত্তি।