
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তার ব্যক্তিগত সুরক্ষায় অস্ত্রধারী গানম্যান নিয়োগের পাশাপাশি বাসভবনে পোশাকধারী সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জামায়াত আমিরের ক্ষেত্রে বর্তমানে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা ঝুঁকি বা হুমকি বিদ্যমান রয়েছে। এ কারণে তার চলাফেরা ও বসবাসের স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজন বা একাধিক গানম্যান নিয়োগ এবং বাসভবনের নিরাপত্তায় পোশাকধারী সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েনের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর ডা. শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান এবং তার বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের আবেদন করা হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামীর দপ্তর সেক্রেটারি আ ফ ম আবদুস সাত্তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ আবেদন করেন। আবেদনটি যাচাই–বাছাই শেষে সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে বাস্তবতায় এর আগেই আংশিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই জামায়াত আমিরের নিরাপত্তায় একজন গানম্যান এবং একটি পুলিশ স্কোয়াড নিয়োজিত রয়েছে। তার চলাচলের সময় এই স্কোয়াড দায়িত্ব পালন করছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী নজরুল ইসলাম জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে একজন গানম্যান এবং একটি গাড়িসহ পুলিশ স্কোয়াড দেওয়া হয়েছে। তবে মূলত বাসভবনে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের আলোকে সরকার নতুন করে নির্দেশনা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দলীয় নেতাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তা জোরদারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বিষয়টি মিলিয়ে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও বাসভবনের সুরক্ষা আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।