
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) সংসদীয় আসনের নির্বাচনি পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিনা খান চৌধুরীকে ঘিরে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার মনোনয়নপত্র পুনর্বহাল হওয়ার পর থেকেই এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা ও জনআগ্রহ।
বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) হাসিনা খান চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে থাকা সব আইনি জটিলতা দূর হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইয়ে অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করে তার প্রার্থিতা বাতিল করেছিলেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন হাসিনা খান চৌধুরী। আপিল শুনানিতে কমিশন তার দাখিল করা তথ্য ও কাগজপত্র পুনরায় যাচাই করে এবং স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন হওয়ায় আপিল মঞ্জুর করে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে নান্দাইল আসনে নির্বাচনি সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এলাকায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন এই স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী।
হাসিনা খান চৌধুরী নান্দাইল আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম খুররম খান চৌধুরীর সহধর্মিণী। তার পারিবারিক পরিচয় ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নান্দাইলের ভোটারদের মধ্যে তাকে পরিচিত একটি মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এছাড়া তার ছেলে নাসের খান চৌধুরী উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। ফলে রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা একজন প্রার্থী হিসেবে হাসিনা খান চৌধুরীর প্রতি একটি অংশের ভোটারের আলাদা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার খবরে নান্দাইলের বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা গেছে। অনেক স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের খবরও পাওয়া গেছে। স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে এই ঘটনায়।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাসিনা খান চৌধুরীর নির্বাচনে থাকা নান্দাইল আসনের ভোটের হিসাবকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায় কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।