কুমিল্লা-৪ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার মধ্যে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে হাসনাত আব্দুল্লাহ অংশ নিতে পারলেও টিপু মুন্সির জন্য নির্বাচনী মাঠ বন্ধ হয়ে গেল।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। শুনানিতে কমিশনের সদস্যরা উভয় পক্ষের বক্তব্য, লিখিত আপিল আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে কমিশন সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
এর আগে বিএনপির প্রার্থী টিপু মুন্সি হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। তার আপিল আবেদনে অভিযোগ করা হয়, হাসনাত আব্দুল্লাহ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব বিবরণীতে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এর মাধ্যমে প্রায় ৩০ লাখ টাকা সংগ্রহের যে তথ্য দিয়েছেন, তা বাস্তবসম্মত নয় এবং বিভ্রান্তিকর। অভিযোগে বলা হয়, এই অর্থের উৎস ও প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।
তবে আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা জানান, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে এই অভিযোগ আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিবেচিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে এবং তার প্রার্থিতা বহাল রাখে।
অন্যদিকে, একই শুনানিতে বিএনপি প্রার্থী টিপু মুন্সির মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়। জানা যায়, হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে টিপু মুন্সির বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত একটি আপিল আবেদন করা হয়েছিল। শুনানিতে প্রাপ্ত তথ্য ও নথির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সেই আপিল গ্রহণ করে। এর ফলে টিপু মুন্সির মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
এই দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। একজন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকলেও অন্যজন বাদ পড়ায় ভোটের হিসাব-নিকাশ ও প্রচারণার কৌশল বদলে যেতে পারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে আইন ও বিধি অনুযায়ী সঠিক বলে মনে করছেন। আবার কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব সিদ্ধান্তই প্রচলিত নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচনী পরিস্থিতি এখন নতুন মোড় নিয়েছে। সামনে প্রচারণা ও ভোটের মাঠে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।