নানামুখী হত্যার হুমকির কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন জামায়াতের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমীর হামজা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব হুমকির মধ্যেও তিনি নিজের আদর্শ ও অবস্থান থেকে সরে আসবেন না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আমীর হামজা লেখেন, গতকাল থেকে একাধিক মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মৃত্যুকে তিনি ভয় পান না এবং আল্লাহর ইচ্ছার ওপর সম্পূর্ণভাবে ভরসা রাখেন। তার ভাষায়, “আমি মৃত্যুর জন্য সব সময় প্রস্তুত, ইনশাআল্লাহ।”
এই বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি তার পরিবার ও সন্তানদের প্রসঙ্গও সামনে আনেন। বিশেষ করে তার তিনজন কন্যাসন্তানকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে মানবিক আবেদন জানান। তিনি লেখেন, তার অনুপস্থিতিতে যেন কুষ্টিয়ায় শুরু হওয়া ‘ইনসাফ কায়েমের লড়াই’ অব্যাহত রাখা হয় এবং একই সঙ্গে তার ছোট ছোট মেয়েদের প্রতি সবাই যেন খেয়াল রাখেন।
আমীর হামজার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার পোস্টে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছেন, আবার অনেকে বিষয়টিকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন হুমকির ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মত প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহল।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই এমন হুমকির ঘটনা সামনে আসছে। এতে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও মতপ্রকাশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে আমীর হামজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।
এদিকে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নজরে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও হুমকির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, মতাদর্শ ভিন্ন হলেও কাউকে হুমকি দেওয়া বা প্রাণনাশের ভয় দেখানো কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আমীর হামজার এই পোস্ট শুধু একজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত আশঙ্কাই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি প্রতিফলন হিসেবেও দেখছেন অনেকেই।