ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে রাজধানী ঢাকায় একটি আবাসিক ফ্ল্যাট দিতে এক কোটি টাকা বিশেষ অনুদান অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এই বরাদ্দে চূড়ান্ত সম্মতি প্রদান করে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় অবস্থিত সরকারি আবাসিক ভবন ‘দোয়েল টাওয়ার’-এ প্রায় ১২১৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় ও তা সম্পূর্ণভাবে সুসজ্জিত করতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। তবে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হাদির স্ত্রী ও সন্তানের পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চলতি অর্থবছরের ‘আবাসিক ভবন’ খাতে বরাদ্দ রাখা ছয় কোটি টাকা থেকেই এই এক কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এটি কোনো ব্যক্তিগত অনুদান নয়; বরং রাষ্ট্রীয় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত রাজনৈতিক আন্দোলন ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে পরিচিতি লাভ করেন শরীফ ওসমান বিন হাদি। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনী প্রচারণার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। পরে তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার আকস্মিক মৃত্যু দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
হাদির মৃত্যুর পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, রাষ্ট্র হাদির পরিবারের পাশে থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে। সেই ঘোষণারই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে এই আবাসন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা একদিকে যেমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, অন্যদিকে রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার বার্তা দেয়। যদিও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তবুও সরকার এটিকে একটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছে।
ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শিগগিরই হাদির পরিবার সেখানে বসবাস শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।