আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের কাজ এক মাসের মধ্যেই শুরু করা হবে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা অঞ্চল যেসব প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক বঞ্চনার শিকার হয়েছে, তা আর চলতে দেওয়া হবে না।
বুধবার দুপুরে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে আয়োজিত এনসিপির এক নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচিত হলে কুমিল্লাকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ হিসেবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি চলমান ও পূর্বে গৃহীত প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করা হবে। একই সঙ্গে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে কোনো গড়িমসি করা হবে না। বরং প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করে কুমিল্লা অঞ্চলের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ একটি অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু মনোনয়ন যাচাই প্রক্রিয়ার শুরুতেই ঋণখেলাপি ও বিদেশি নাগরিকদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার মাধ্যমে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। তার দাবি, এসব সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেছেন, তাদের উচিত দেশের বাস্তব পরিস্থিতি সরাসরি দেখা ও বোঝা। দেশের রাস্তাঘাট, জনজীবন ও মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা না নিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণের আস্থা পাওয়া কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেবীদ্বারে এর আগে অনুষ্ঠিত আরেকটি সমাবেশে আসিফ মাহমুদ বলেন, দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসন ও নিপীড়নের পর দেশের মানুষ এখন নতুন ধরনের চাপ ও আধিপত্যের আশঙ্কা করছে। তার ভাষায়, একটি গোষ্ঠী জনবিচ্ছিন্ন অবস্থায় থেকেও আবার জনগণের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।
সভা শেষে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি দীর্ঘদিনের। আসিফ মাহমুদের এই ঘোষণায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।