চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে শিশু মেজবাহ। ঘটনাটি স্থানীয়দের পাশাপাশি পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল নাগাদ রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামে খেলতে গিয়ে হঠাৎ করেই পরিত্যক্ত একটি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায় শিশুটি। বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নলকূপটির মুখ দীর্ঘদিন ধরে খোলা অবস্থায় ছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় শিশুদের জন্য এটি ছিল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনার সময় শিশুটি আশপাশে খেলছিল বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা প্রথমে নিজেরাই উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। টর্চলাইট, দড়ি ও গাছের ডাল ব্যবহার করে শিশুটিকে ধরে রাখার চেষ্টা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর রাত সোয়া ৮টার দিকে শিশুটিকে নলকূপের গর্ত থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুর মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে আসে গভীর শোক। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। এলাকাবাসী এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল পরিত্যক্ত ও খোলা নলকূপের গর্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব গর্ত বন্ধ না করায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ নলকূপগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এ ধরনের দুর্ঘটনা দেশে নতুন নয়। গত বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত নলকূপের গর্তে পড়ে শিশু সাজিদ নিখোঁজ হয়। প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান শেষে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সে ঘটনাও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রামাঞ্চলে পরিত্যক্ত নলকূপের গর্তগুলো দ্রুত সুরক্ষিত না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা।