ঠাকুরগাঁও-৩ সংসদীয় আসনে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী বক্তব্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে। প্রচলিত উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বা রাজনৈতিক স্লোগানের বাইরে গিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে হাজির হয়েছেন একেবারেই ভিন্ন এক আশ্বাস নিয়ে—জয়ী হলে বিয়ের ব্যবস্থা সহজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
স্থানীয়ভাবে গণসংযোগকালে দেওয়া এক বক্তব্যে এই প্রার্থী জানান, তরুণ ভোটারদের কাছ থেকে তিনি প্রায়ই বিয়ের বিষয়ে সহায়তার অনুরোধ পান। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক তরুণ-তরুণী সংসার গড়তে আগ্রহী হলেও আর্থিক ও সামাজিক জটিলতায় পিছিয়ে পড়ছেন। তিনি নির্বাচনে জয়ী হলে এসব বিষয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবেন বলেও উল্লেখ করেন।
শুধু তরুণ ভোটার নয়, বিভিন্ন বয়সী মানুষের কাছেই তিনি হাস্যরসের ছলে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। দাদা-দাদি থেকে শুরু করে চাচা-চাচি—সবার কাছেই একটি করে ভোট চাওয়ার সময় তিনি এই ব্যতিক্রমী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন। এতে অনেক ভোটার যেমন অবাক হয়েছেন, তেমনি অনেকে বিষয়টিকে মজার হিসেবেও নিয়েছেন।
এই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বিষয়টিকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে নিছক হাস্যরসের উপাদান হিসেবে নিচ্ছেন। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মন্তব্যে দেখা গেছে, কেউ বলছেন—ভোটের বিনিময়ে কেউ উন্নয়ন দেয়, কেউ স্বর্গের টিকিট দেয়, আর কেউ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়।
তবে আলোচনার বাইরে গিয়ে স্থানীয় সমাজকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, এই প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে নারী অধিকার ও সামাজিক সচেতনতা নিয়ে কাজ করে আসছেন। তাদের মতে, প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, যা ভোটের রাজনীতিতে এক ধরনের ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগেও তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় উল্লেখযোগ্য ভোট না পেলেও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয়তা এলাকায় পরিচিত। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নতুনভাবে আলোচনায় এলেও ভোটের ফলাফল কী হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি আসনে মোট একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আলোচিত এই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়াও অন্যান্য দলীয় প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন ব্যতিক্রমী বক্তব্য ভোটের মাঠে সাময়িক আলোচনার জন্ম দিলেও শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কার ওপর আস্থা রাখবেন, তা নির্ভর করবে সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর। তবে এটুকু বলা যায়, নির্বাচনী প্রচারে অভিনব কৌশলের কারণে এই প্রার্থী ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনার জায়গা করে নিয়েছেন।