আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে নির্বাচনী পরিবেশ দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা জোরেশোরে মাঠে নামলেও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর প্রচারণা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তার নির্বাচনী প্রচারণায় ভিক্ষুকদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং তাদের অর্থ দিয়ে প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, হাট-বাজার ও জনবহুল স্থানে কিছু ভিক্ষুককে ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দিতে এবং প্রচারপত্র বিলি করতে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভিক্ষুককে কেউ কেউ ৫০০ টাকা, আবার কাউকে ১ হাজার টাকা করে দিয়ে প্রচারণায় নামানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক সত্যতা যাচাই হয়নি।
লালমনিরহাট-৩ আসনটি সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় তিন লক্ষের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান। এবারের নির্বাচনে এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—সব দলই নিজ নিজ প্রতীকে ভোট চাইছে।
বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ। তিনি অতীতে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী মাঠে তাকে ‘হেভিওয়েট প্রার্থী’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তার স্ত্রী ও সন্তানও প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
তবে প্রচারণায় ভিক্ষুকদের সম্পৃক্ত করার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ সংক্রান্ত ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে ব্যতিক্রমী প্রচারণা বললেও, আবার অনেকেই বিষয়টিকে অনৈতিক ও নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন নতুন ভোটার জানান, তারা শুধু প্রচার বা স্লোগানের ওপর নির্ভর করতে চান না। তাদের কাছে প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা, এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে যোগ্য প্রার্থী বেছে নিতে আগ্রহী।
এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, লালমনিরহাট-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আলোচনা ততই বাড়ছে। অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য ও প্রচারণার মধ্য দিয়েই এই আসনের নির্বাচনী উত্তাপ আরও তীব্র হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।