বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা কলেজ উত্তপ্ত, ছাত্রদলের ভূমিকায় প্রশংসা নয়নের সারজিস আলমের মন্তব্যে ছাত্রদল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নতুন নির্দেশনা অভিজ্ঞতা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে আবেদন করার সুযোগ ৫ আগস্ট উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা জারি সম্পত্তি দানেও আজীবন অধিকার রাখবেন বাবা-মা ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু, বাজারদর কমার আশা গাজীপুর ভূমি অফিসে অনিয়ম অভিযোগে চার কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত ১৫ টাকার চালে ৫৫ লাখ পরিবার, ছয় মাস সুবিধা মিলবে মৃত শিক্ষকের বেতন ইস্যুতে বিস্ফোরক বক্তব্য অভিযুক্ত নেতার

এক্স হ্যাক করে আমিরকে বিতর্কিত করার অভিযোগ জামায়াতের

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত সাইবার ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। জামায়াতের দাবি, কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ যে বিতর্কিত পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ে, সেটি তাদের আমিরের বক্তব্য নয়; বরং সাময়িকভাবে হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই পোস্টটি প্রকাশ করা হয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার বিকেলে ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টটি অল্প সময়ের জন্য অননুমোদিত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর জামায়াতের সাইবার টিম দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং প্রায় ৪৫ মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা হয়। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যেই একটি আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট প্রকাশ করা হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
জামায়াতে ইসলামীর দাবি, পোস্টটিতে যে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে তা আমিরের নীতি, রাজনৈতিক দর্শন কিংবা দলীয় অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এটি একটি ‘মিথ্যা বক্তব্য’, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই প্রচার করা হয়েছে।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, এই সাইবার হামলার পেছনে একটি বিশেষ মহল এবং তাদের সাইবার টিম জড়িত থাকতে পারে। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে জামায়াতকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং আসন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করাই ছিল এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য।
এ ঘটনার পরপরই জামায়াতে ইসলামী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বলে জানা গেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সাইবার অপপ্রচার আরও বাড়তে পারে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি জামায়াতের হ্যাকিং দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে জামায়াতের নেতারা বলছেন, সাইবার হামলার ধরন ও সময়কাল বিবেচনায় এনে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, ভেরিফায়েড ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনা বিশ্বব্যাপী নতুন নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া সম্ভব হলেও, সম্পূর্ণ তদন্ত ও প্রযুক্তিগত যাচাই সময়সাপেক্ষ হয়ে থাকে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলের আমিরকে বিতর্কিত করতে এবং নারীবিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপনের যে চেষ্টা চলছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। দলটি তাদের ঘোষিত নীতি, কর্মসূচি ও লিখিত বক্তব্যের আলোকে বিচার করার আহ্বান জানিয়েছে এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্টে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করেছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews