জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তাকে জামিন দিয়েছেন আদালত। মামলাটি সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় করা হয় বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার একটি আদালতে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক অভিযুক্ত মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমের জামিন মঞ্জুর করেন। তিনি বঙ্গভবনে সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খন্দকার সালেহ আবু নাঈম তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তিনি বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে জামিন চেয়ে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে এবং তিনি পলাতক হওয়ার কোনো ঝুঁকিতে নেই বলে দাবি করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে কিছু আলামত পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের অভিযোগ সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ কারণে জামিন নামঞ্জুরের আবেদন জানানো হয়।
শুনানিকালে বিচারক অভিযুক্তকে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেন। তখন ছরওয়ারে আলম বলেন, তিনি কোনো ধরনের হ্যাকিং কার্যক্রমে জড়িত নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগটি ভিত্তিহীন এবং তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার আহ্বানে তিনি স্বেচ্ছায় নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জমা দিয়েছেন। তার দাবি, চাকরির শেষ পর্যায়ে এসে এমন কোনো কাজ করার প্রশ্নই ওঠে না, যা তার পেশাগত জীবন ও পারিবারিক ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
অভিযুক্তের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। তিনি আদালতের কাছে সুবিচারের প্রত্যাশা করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।