চট্টগ্রাম-১৩ আসনের (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম স্থানীয় একটি বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন—এমন অভিযোগ ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার রাতে আনোয়ারা উপজেলার চাতুরী চৌমুহনী বাজারে একটি নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ ঘিরেই এই আলোচনা শুরু হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের সময় সরওয়ার জামাল নিজাম বক্তব্য দেন। পরে সেই বক্তব্যের প্রায় ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, চাতুরী এলাকা আনোয়ারা উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং এখানে নানা ধরনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ রয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপির এই প্রার্থী দুই হাত জোড় করে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী এলাকায় চাঁদাবাজি, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। তিনি দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং নির্বাচনী পরিবেশও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি ১২ তারিখ পর্যন্ত চাঁদাবাজি বন্ধ রাখার আহ্বান জানান বলে ভিডিওতে শোনা যায়।
একই বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, কেউ যদি রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সহিংসতা সৃষ্টি করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে—এমন সতর্কবার্তাও তিনি উচ্চারণ করেন বলে ভিডিওতে উঠে এসেছে।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সরওয়ার জামাল নিজামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। ফলে ভিডিওতে থাকা বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সরাসরি তার ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে নির্বাচনী পরিবেশে বিরাজমান অস্থিরতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, এমন বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে বিতর্ক তৈরি করতে পারে এবং এর নানা ব্যাখ্যা হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো ধরনের অভিযোগ, বক্তব্য বা অনুরোধ গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তারা মত দিয়েছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই ভিডিওর বক্তব্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের দাবি তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাধারণ মহলে আগ্রহ তৈরি হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।