ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্যপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের জারি করা এই বিধিনিষেধ কার্যত সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ছাড়া সাংবাদিকতার কথা কল্পনাই করা যায় না। তথ্য সংগ্রহ, ছবি ও ভিডিও ধারণ, তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন পাঠানো এবং জরুরি যোগাযোগ—সবকিছুই এখন মোবাইলনির্ভর। ফলে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে বাধা দেওয়া হলে সাংবাদিকদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ডিআরইউ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মোবাইল ফোননির্ভর এই সময়ে নির্বাচনকেন্দ্রে সাংবাদিকদের ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে শৃঙ্খলা বজায় রাখার যুক্তি প্রশ্নবিদ্ধ। বরং এতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হতে পারে এবং অনিয়ম আড়াল হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অভিযোগ করা হয়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের চারশ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাস্তব ক্ষেত্রে এই বিধান সাংবাদিকদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকরা এতে কার্যত অচল অবস্থায় পড়ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ডিআরইউ মনে করে, সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের সুযোগ দেওয়া মানেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ নয়। বরং এটি ভোটকে আরও বিশ্বাসযোগ্য, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সংগঠনটির মতে, সংবিধানস্বীকৃত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার এ ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনের কিছু নির্দেশনা ও তার মাঠপর্যায়ের প্রয়োগ সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে পরিকল্পিত প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে—এমন অভিযোগও তোলা হয়েছে।
ডিআরইউ নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানিয়েছে, অবিলম্বে নির্বাচনকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই সিদ্ধান্তকে গণমাধ্যমবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না এবং সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় তারা ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকবে।