আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে—এমনটাই জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। অভিযোগ উঠেছিল, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক একটি নির্দেশনার ফলে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সভাপতি কাজী জেবেল। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না—এমন আশ্বাস তারা পেয়েছেন।
বলেন, আধুনিক সাংবাদিকতায় মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য মাধ্যম। দ্রুত ছবি ধারণ, ভিডিও ধারণ, তথ্য পাঠানো এবং সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ছাড়া দায়িত্ব পালন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারে শিথিল অবস্থান নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আরএফইডির সভাপতি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণ ভোটারসহ কোনো ব্যক্তির মোবাইল ফোন বহনের বিষয়ে কড়াকড়ির কথা বলা হয়েছিল। এতে সাংবাদিকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, এমন সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নির্বাচনের স্বচ্ছতার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি। কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে না। দ্রুতই এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।”
এর আগে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর সাংবাদিক সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ হলে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে ভোট গ্রহণের স্বচ্ছতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটার উপস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তাৎক্ষণিকভাবে জানানো ব্যাহত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ থাকলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়। এ কারণে সাংবাদিকদের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত নির্দেশনা প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নজরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলছেন, স্পষ্ট ও লিখিত নির্দেশনা এলে মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি কমবে এবং সাংবাদিকরা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।