
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। টানা সরকারি ও বিশেষ ছুটিকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকেই রাজধানীর প্রধান সড়ক, বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কগুলোতে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে, অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, বিমানবন্দর, কাওলা, আজমপুর, হাউজবিল্ডিং, টঙ্গী ও আবদুল্লাহপুর এলাকায় যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। হাতে ব্যাগ-পোঁটলা নিয়ে পরিবারসহ বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন অনেকে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বাড়তি যাত্রীর চাপকে পুঁজি করে কিছু পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। যেখানে সাধারণ সময়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় যাতায়াত করা যায়, সেখানে এখন কোথাও কোথাও ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গন্তব্যে পৌঁছানোর তাগিদে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়েই যাত্রা শুরু করছেন সাধারণ মানুষ।
উত্তরার একটি বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ পোশাকশ্রমিক আব্দুল মালেক বলেন, “ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি যাচ্ছি। সরকার ছুটি দিয়েছে, এটা ভালো। কিন্তু ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে যে পথে ৪০০ টাকা লাগত, এখন ১৫০০ টাকা চাইছে।”
একই ধরনের অভিযোগ করেন রংপুরগামী যাত্রী শাহানা আক্তার। তিনি বলেন, “অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। গাড়ি কম, যাত্রী বেশি। তার ওপর ভাড়া অস্বাভাবিক। কষ্ট হলেও ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি যেতে হচ্ছে।”
এদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ভাড়া নৈরাজ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, নির্বাচন উপলক্ষে যাতায়াত বাড়বে—এটি স্বাভাবিক। তবে এই সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। অভিযোগ উঠেছে, কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ আদালত বা নজরদারির অভাবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকার ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ভোটগ্রহণের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি আগেই ছুটির দিন ছিল। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি কার্যকর রয়েছে।
যাত্রীদের দাবি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া হোক, নির্ধারিত ভাড়া তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানানো হোক এবং ভাড়া তদারকিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হোক।