ঢাকা-১৫ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী প্রচারণার একাধিক কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ আসনে তার নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লার অন্তত ১৩টি বুথ বা অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান এ অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজ আমার নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫-এ দাঁড়িপাল্লার ১৩টি নির্বাচনী বুথ ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
তার অভিযোগ, একটি মহল সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি বলেন, যারা সহিংসতা ও পেশীশক্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তারা বাস্তবতা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। জনগণ এখন সচেতন এবং রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে সজাগ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত যুক্তি ও কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে। কিন্তু যারা আলোচনায় বা নীতিগত বিতর্কে পিছিয়ে পড়ছেন, তারাই নাকি সহিংস পন্থা অবলম্বন করছেন—এমন অভিযোগও তোলেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভয়ভীতির রাজনীতি দীর্ঘদিন টিকতে পারে না এবং জনগণের সমর্থনই শেষ পর্যন্ত নির্ধারক ভূমিকা রাখবে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কারা বা কোন পক্ষ এ ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত—সেটিও স্পষ্ট নয়। অভিযোগের বিষয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়াও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঢাকা-১৫ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রচারণায় সরব রয়েছেন। এরই মধ্যে এমন ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের সময় যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা ভাঙচুরের অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি। এতে করে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে এবং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।