
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়—নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধনকুণ্ডা পপুলার হাইস্কুল ভোটকেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা আগেই ব্যালটে সিল মারছেন। ভিডিওটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয় এবং ভোটের আগে পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ভিডিও প্রকাশের পর অভিযোগ ওঠে, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. বশিরুল হক ভূঁইয়ার তত্ত্বাবধানে ব্যালট বক্স ও ব্যালট পেপার খোলা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী কেন্দ্রটিতে গিয়ে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানা যায়। পরে ঘটনাটির একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে আগাম ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
তবে দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহিনা ইসলাম চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে যেসব আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করতে হয়—যেমন ভোটার তালিকা অনুযায়ী ব্যালট পেপার যাচাই, কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা ও সরঞ্জাম মিলিয়ে দেখা—সেই কাজই চলছিল।
তিনি বলেন, “ভোটের আগে ব্যালট ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সেখানে বাইরের কেউ উপস্থিত ছিল না এবং দলীয় কোনো আলোচনা হচ্ছিল—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি।” অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, প্রিজাইডিং অফিসারকে নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ প্রশাসনের কাছে নেই।
এদিকে একটি স্থানীয় অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপার খোলা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ তোলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একজন প্রধান শিক্ষক এবং তিনি নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তার দাবি, বাইরে থেকে ‘সিল মারা হচ্ছে’—এমন প্রচার করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে কেন্দ্রভিত্তিক কাগজপত্র যাচাই ও সরঞ্জাম প্রস্তুত করা স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজ। তবে এ ধরনের ভিডিও প্রেক্ষাপট ছাড়া ছড়িয়ে পড়লে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামগ্রিকভাবে প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, আগাম ভোট দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবুও নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।