
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অর্ধকোটি টাকাসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে আটক করার ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ভোটারদের মাঝে অর্থ বিতরণের অভিযোগে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আটক ব্যক্তি কাজল মৃধা, যিনি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডের একটি টহল দল অভিযান চালায়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল হাসানের উপস্থিতিতে সন্দেহভাজনের সঙ্গে থাকা একটি বাজারের ব্যাগ তল্লাশি করে নগদ ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে তিনি জানান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই অর্থ ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বিতরণ করা হচ্ছিল—এমন অভিযোগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে।
অভিযান চলাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদিক, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মকর্তা মো. রাব্বি ইসলাম রনি, এনএসআই প্রতিনিধি, কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
তবে আটক কাজল মৃধা বা তার দলের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের মতামত জানা গেলে তা যুক্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অর্থের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভোটার প্রভাবিত করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
ঘটনার পর এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের অভিযোগ পেলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ঘিরে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে এখন সবার নজর।